ই-পাসপোর্ট
হারানো পাসপোর্ট রিইস্যু করার নিয়ম
পাসপোর্ট হারিয়ে বা নষ্ট হয়ে গেলে ঘাবড়াবেন না। থানায় জিডি, অনলাইনে রিপোর্ট আর রিইস্যু আবেদন—সঠিক ধাপগুলো জানলে নতুন পাসপোর্ট পাওয়া কঠিন নয়।
সংক্ষেপে উত্তর
পাসপোর্ট হারালে দ্রুত নিকটস্থ থানায় একটি জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করুন এবং পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অনলাইন ব্যবস্থায় বিষয়টি জানান। পুলিশ জিডি যাচাই করে সাধারণত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট দেয়; রিপোর্ট না এলেও জিডির কপি দিয়ে ‘Lost Circular’ জারির পর রিইস্যু আবেদন করা যায়। প্রথমবার হারালে সাধারণ রিইস্যু ফি, দ্বিতীয়বার বা পরে প্রতিবার বাড়তি জরিমানা লাগে—সর্বশেষ নিয়ম epassport.gov.bd-এ যাচাই করুন।
মূল পয়েন্ট
- পাসপোর্ট হারালে প্রথম কাজ—নিকটস্থ থানায় জিডি করা এবং অনলাইনে অধিদপ্তরকে জানানো।
- পুলিশ জিডি যাচাই করে সাধারণত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট দেয়; তারপর Lost Circular জারি হয়।
- রিইস্যুর সময় নাম, পিতা-মাতার নাম বা জন্মতারিখের মতো মৌলিক তথ্য বদলানো যায় না।
- প্রথমবার হারালে সাধারণ ফি; দ্বিতীয়বার বা তার পর প্রতিবার বাড়তি জরিমানা (সাম্প্রতিক নিয়মে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত) লাগতে পারে।
- নতুন পাসপোর্টের ডেটা পেজে ‘Previous Passport is Reported to be Lost’ লেখা থাকতে পারে।
- মিথ্যা হারানোর জিডি করবেন না—এতে আইনি জটিলতা হতে পারে। নিয়ম ২০২৬ অনুযায়ী যাচাই করুন।
ধাপে ধাপে
- থানায় জিডি করুনযত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ থানায় গিয়ে পাসপোর্ট হারানোর সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করুন। জিডিতে পাসপোর্ট নম্বর, ইস্যু তারিখ (জানা থাকলে) এবং কীভাবে হারিয়েছে তা স্পষ্টভাবে লিখুন। জিডির কপি সংরক্ষণ করুন।
- অনলাইনে অধিদপ্তরকে জানানপাসপোর্ট অধিদপ্তরের অনলাইন ব্যবস্থায় হারানোর বিষয়টি জানান। দেশে জিডি ও অনলাইন রিপোর্ট—দুটিই দ্রুত করা উচিত; বিদেশে হারালে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস/হাইকমিশনকে জানাতে হবে।
- পুলিশ যাচাই ও Lost Circularপুলিশ জিডি যাচাই করে সাধারণত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট পাঠায়। রিপোর্ট না এলেও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় জিডির কপি জমা দিয়ে ‘Lost Circular’ (হারানো সার্কুলার) জারির পর রিইস্যু আবেদন এগোনো যায়।
- রিইস্যু আবেদন পূরণ করুনepassport.gov.bd-এ রিইস্যু আবেদন করুন। পুরনো পাসপোর্টের তথ্য, জিডির কপি ও এনআইডি/জন্মনিবন্ধন দিন। মনে রাখুন, রিইস্যুতে নাম, পিতা-মাতার নাম বা জন্মতারিখের মতো মৌলিক তথ্য পরিবর্তন করা যায় না।
- ফি ও সম্ভাব্য জরিমানা পরিশোধ করুনপ্রথমবার হারানো/চুরি/নষ্ট হলে সাধারণ রিইস্যু ফি প্রযোজ্য। দ্বিতীয়বার বা তার পর প্রতিবারের জন্য বাড়তি জরিমানা (সাম্প্রতিক নিয়মে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত) যুক্ত হতে পারে। সর্বশেষ ফি/জরিমানা পোর্টালে যাচাই করুন।
- বায়োমেট্রিক ও সংগ্রহঅ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক দিন। নতুন পাসপোর্টের ডেটা পেজে হারানোর তথ্য উল্লেখ থাকতে পারে। প্রস্তুত হলে এসএমএস/ইমেইল পেয়ে ডেলিভারি স্লিপ নিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন।
পাসপোর্ট হারালে ঘাবড়াবেন না
বিদেশ ভ্রমণের আগে বা পরে পাসপোর্ট হারিয়ে ফেলা, চুরি হওয়া কিংবা পানিতে বা অন্যভাবে নষ্ট হওয়া অনেকের কাছেই আতঙ্কের বিষয়। তবে নির্দিষ্ট আইনি ধাপ মেনে চললে হারানো পাসপোর্টের বদলে নতুন পাসপোর্ট (রিইস্যু) পাওয়া কঠিন নয়। মূল কথা হলো—সময়মতো থানায় জিডি করা, অধিদপ্তরকে জানানো এবং সঠিকভাবে রিইস্যু আবেদন করা। সম্প্রতি হারানো পাসপোর্ট রিইস্যুর নিয়ম কিছুটা কড়া করা হয়েছে, তাই আবেদনের আগে সর্বশেষ নির্দেশনা জেনে নেওয়া জরুরি।
প্রথম ধাপ: জিডি ও অনলাইন রিপোর্ট
পাসপোর্ট হারানোর সঙ্গে সঙ্গে আপনার করণীয় হলো নিকটস্থ থানায় গিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করা। জিডিতে আপনার পাসপোর্ট নম্বর, ইস্যুর তারিখ (জানা থাকলে) এবং কীভাবে ও কোথায় হারিয়েছে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন। জিডির কপি যত্নে রাখুন, কারণ পরবর্তী প্রতিটি ধাপে এটি লাগবে। একই সঙ্গে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অনলাইন ব্যবস্থায় হারানোর বিষয়টি জানাতে হবে। সাম্প্রতিক নিয়ম অনুযায়ী দেশে থাকলে জিডি ও অনলাইন রিপোর্ট—দুটিই একসঙ্গে দ্রুত করা উচিত। আপনি যদি বিদেশে থাকেন, তাহলে থানার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনকে জানাতে হবে; তারাই প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেবে।
পুলিশ যাচাই ও Lost Circular
জিডির পর পুলিশ সাধারণত বিষয়টি যাচাই করে একটি রিপোর্ট পাঠায়, এবং নিয়ম অনুযায়ী এই রিপোর্ট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেওয়ার কথা। যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিপোর্ট না আসে, তবুও আবেদনকারী জিডির কপি জমা দিয়ে এগোতে পারেন; তবে তার আগে একটি ‘Lost Circular’ বা হারানো সার্কুলার জারি করা হয়। এই সার্কুলার মূলত নিশ্চিত করে যে পুরনো পাসপোর্টটি বাতিল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যাতে সেটি কেউ অপব্যবহার করতে না পারে।
রিইস্যু আবেদন ও ফি
এরপর epassport.gov.bd-এ গিয়ে রিইস্যু আবেদন করতে হয়। আবেদনে পুরনো পাসপোর্টের তথ্য, জিডির কপি এবং এনআইডি বা জন্মনিবন্ধন সংযুক্ত করতে হয়। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখুন—হারানো পাসপোর্ট রিইস্যুর সময় নাম, পিতা-মাতার নাম কিংবা জন্মতারিখের মতো মৌলিক তথ্য পরিবর্তন করা যায় না; এসব সংশোধনের জন্য আলাদা প্রক্রিয়া আছে। ফি-র ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক নিয়মে একটি পার্থক্য আছে: প্রথমবার হারানো, চুরি বা নষ্ট হলে সাধারণ রিইস্যু ফি প্রযোজ্য, কিন্তু কেউ দ্বিতীয়বার বা তার পর প্রতিবার পাসপোর্ট হারালে বাড়তি জরিমানা (সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত) যুক্ত হতে পারে। যেহেতু ফি ও জরিমানা পরিবর্তনশীল, ২০২৬ সালের সর্বশেষ হার পোর্টালে যাচাই করে নিন।
যা যা প্রস্তুত রাখবেন
রিইস্যু প্রক্রিয়া মসৃণ রাখতে কিছু কাগজপত্র আগে থেকে গুছিয়ে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। প্রথমত, থানায় করা জিডির মূল কপি বা তার সত্যায়িত অনুলিপি সংরক্ষণ করুন—এটি পুরো প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি। দ্বিতীয়ত, হারানো পাসপোর্টের কোনো ফটোকপি, স্ক্যান বা অন্তত পাসপোর্ট নম্বর ও ইস্যুর তারিখের তথ্য যদি থাকে, তা আলাদা করে রাখুন; এতে আবেদন পূরণ সহজ হয়। তৃতীয়ত, এনআইডি বা অনলাইনে যাচাইযোগ্য জন্মনিবন্ধন সনদের মূল ও ফটোকপি প্রস্তুত রাখুন, কারণ নতুন ব্যবস্থায় যাচাই মূলত এই তথ্যের ওপর নির্ভর করে। যদি আগের ভিসা বা ভ্রমণ-সংক্রান্ত কোনো নথি থাকে, সেগুলোও সঙ্গে রাখতে পারেন। আবেদন পূরণের সময় তাড়াহুড়া না করে পুরনো পাসপোর্টের তথ্য হুবহু বসান, কারণ রিইস্যুতে মৌলিক তথ্য বদলানোর সুযোগ নেই। সব কাগজ একসঙ্গে একটি ফাইলে গুছিয়ে রাখলে অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন অফিসে ভোগান্তি অনেক কমে যায় এবং আবেদন আটকে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে কম।
নতুন পাসপোর্ট ও কিছু সতর্কতা
রিইস্যু আবেদন অনুমোদন হলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক দিতে হয়, এবং নতুন পাসপোর্টের ডেটা পেজে অনেক সময় ‘Previous Passport is Reported to be Lost’ ধরনের তথ্য উল্লেখ থাকে। একটি জরুরি সতর্কতা: হারানো ঘোষণা দিয়ে বাতিল করা পুরনো পাসপোর্ট পরে খুঁজে পেলেও সেটি দিয়ে আর ভ্রমণ করা যাবে না। নতুন নিয়ম কড়া করার একটি কারণ হলো, কিছু ক্ষেত্রে ভিসা এজেন্সি পাসপোর্ট আটকে রাখলে যাত্রীরা মিথ্যা করে ‘হারিয়েছে’ বলে জিডি করতেন। তাই মিথ্যা হারানোর জিডি করবেন না—এতে আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন। পাশাপাশি দালালদের ‘জিডি ছাড়াই পাসপোর্ট’ বা ‘সার্কুলার ম্যানেজ’ ধরনের প্রতিশ্রুতি এড়িয়ে চলুন এবং শুধু অফিসিয়াল পোর্টাল ও থানা-অফিসের মাধ্যমে কাজ করুন। এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য, কোনো আইনি পরামর্শ নয়।
⚠ নিরাপদ থাকুন
‘জিডি ছাড়াই পাসপোর্ট এনে দেব’ বা ‘Lost Circular ম্যানেজ করে দেব’ বলে দালালরা প্রতারণা করে। হারানো পাসপোর্টের বৈধ পথ হলো থানায় জিডি ও epassport.gov.bd-এ আবেদন। মিথ্যা হারানোর জিডি (যেমন ভিসা এজেন্সির কাছে পাসপোর্ট থাকলেও হারানো দেখানো) করলে আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন। এনআইডি/তথ্য ভুয়া এজেন্টকে দেবেন না। এটি আইনি পরামর্শ নয়।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর
পাসপোর্ট হারালে প্রথমে কী করব?
পুলিশ রিপোর্ট আসতে কতদিন লাগে?
রিইস্যুতে তথ্য সংশোধন করা যায় কি?
দ্বিতীয়বার হারালে কি বেশি খরচ?
বিদেশে পাসপোর্ট হারালে কী করব?
পুরনো পাসপোর্ট পরে পাওয়া গেলে ব্যবহার করা যাবে?
সরকারি সূত্র
জানি একটি স্বাধীন গাইড এবং কোনো সরকারি সংস্থার সাথে সম্পৃক্ত নয়। ফি, লিংক ও ধাপ পরিবর্তন হতে পারে — কাজ করার আগে সবসময় অফিসিয়াল পোর্টালে নিশ্চিত করে নিন। এটি সাধারণ তথ্য, আইনি বা আর্থিক পরামর্শ নয়।