✓ স্বাধীন — এটি কোনো সরকারি ওয়েবসাইট নয় ✓ প্রতিটি ধাপ অফিসিয়াল পোর্টালে যাচাই করা ✓ আমরা কখনো আপনার NID, OTP বা পাসওয়ার্ড চাই না

ই-পাসপোর্ট

পাসপোর্ট পুলিশ ভেরিফিকেশন: বর্তমান নিয়ম

আগে পাসপোর্ট পেতে হলে পুলিশ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক ছিল। ২০২৫ সালে এই নিয়মে বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন সাধারণ আবেদনে কী হয় এবং কোন ক্ষেত্রে যাচাই লাগতে পারে—জেনে নিন।

সংক্ষেপে উত্তর

২০২৫ সালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী সাধারণ ই-পাসপোর্ট এখন অনলাইনে যাচাইকৃত এনআইডি (প্রাপ্তবয়স্কদের) বা অনলাইন জন্মনিবন্ধন (অপ্রাপ্তবয়স্ক/প্রবাসীদের) তথ্যের ভিত্তিতে ইস্যু হয়, আলাদা পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই। তবে নিয়ম পরিবর্তনশীল এবং কিছু বিশেষ ক্ষেত্র বা বিদেশি মিশনে ব্যতিক্রম থাকতে পারে—আবেদনের আগে epassport.gov.bd ও সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে ২০২৬ অনুযায়ী যাচাই করে নিন।

মূল পয়েন্ট

  • ২০২৫ সালের পরিপত্রে সাধারণ ই-পাসপোর্টের জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশন তুলে দেওয়া হয়েছে।
  • প্রাপ্তবয়স্কদের পাসপোর্ট এখন অনলাইনে যাচাইকৃত এনআইডি তথ্যের ভিত্তিতে ইস্যু হয়।
  • অপ্রাপ্তবয়স্ক ও প্রবাসীদের ক্ষেত্রে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ যাচাই করা হয়।
  • নিয়ম পরিবর্তনশীল—কিছু বিশেষ ক্ষেত্র বা বিদেশি মিশনে ভিন্ন নিয়ম থাকতে পারে, ২০২৬ অনুযায়ী যাচাই করুন।
  • এনআইডি বা জন্মনিবন্ধন তথ্য আগের পাসপোর্টের সঙ্গে না মিললে আবেদন আটকে যেতে পারে।
  • ভুয়া ‘ভেরিফিকেশন তদবির’ এজেন্টের ফাঁদে পা দেবেন না—অফিসিয়াল পোর্টালই ভরসা।

ধাপে ধাপে

  1. বর্তমান নিয়ম যাচাই করুনআবেদনের আগে epassport.gov.bd ও আপনার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের নোটিশ দেখে নিশ্চিত হন—আপনার ধরনের আবেদনে (নতুন/রিইস্যু, দেশে/বিদেশে, প্রাপ্তবয়স্ক/শিশু) পুলিশ ভেরিফিকেশন এখন লাগছে কি না।
  2. এনআইডি/জন্মনিবন্ধন তথ্য ঠিক রাখুনযেহেতু যাচাই এখন মূলত এনআইডি বা জন্মনিবন্ধনের অনলাইন তথ্যনির্ভর, তাই নাম, জন্মতারিখ ও পিতা-মাতার নাম এনআইডি/জন্মনিবন্ধনে সঠিক ও পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ আছে কিনা আগে মিলিয়ে নিন।
  3. আগের পাসপোর্টের সঙ্গে মিল নিশ্চিত করুনরিইস্যুর ক্ষেত্রে আগের পাসপোর্টের তথ্যের সঙ্গে এনআইডি/জন্মনিবন্ধনের তথ্য না মিললে আবেদন সফটওয়্যারে আটকে যেতে পারে। অমিল থাকলে আগে তথ্য সংশোধন করে নিন।
  4. অনলাইনে আবেদন ও বায়োমেট্রিকepassport.gov.bd-এ আবেদন পূরণ করুন, ফি দিন এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে নির্ধারিত অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক (ছবি, আঙুলের ছাপ, চোখের স্ক্যান) দিন। সাধারণ ক্ষেত্রে এরপর আলাদা পুলিশ যাচাইয়ের ধাপ থাকে না।
  5. ব্যতিক্রম হলে সহযোগিতা করুনকোনো বিশেষ ক্ষেত্রে (যেমন তথ্যে অসঙ্গতি বা নির্দিষ্ট নির্দেশনা) যদি অতিরিক্ত যাচাই লাগে, তাহলে পুলিশের সঙ্গে সততার সঙ্গে সহযোগিতা করুন এবং সঠিক ঠিকানা ও কাগজপত্র দেখান।
  6. স্ট্যাটাস ট্র্যাক করুনআবেদন নম্বর (১৩ সংখ্যার Application ID) বা OID দিয়ে epassport.gov.bd-এর স্ট্যাটাস পেজে অগ্রগতি দেখুন। প্রস্তুত হলে এসএমএস/ইমেইলে জানানো হবে।

পুলিশ ভেরিফিকেশন নিয়ে বড় পরিবর্তন

একসময় বাংলাদেশে পাসপোর্ট পেতে হলে পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রায় বাধ্যতামূলক ধাপ ছিল। আবেদনের পর পুলিশ আবেদনকারীর বাসায় গিয়ে ঠিকানা ও পরিচয় যাচাই করত, আর এই রিপোর্ট আসতে দেরি হলে পাসপোর্টও আটকে থাকত। ২০২৫ সালে এই ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের একটি পরিপত্রে সাধারণ ই-পাসপোর্টের জন্য আলাদা পুলিশ ভেরিফিকেশন তুলে দেওয়া হয় এবং পরিবর্তে অনলাইনে যাচাইকৃত জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা জন্মনিবন্ধনের তথ্যের ওপর নির্ভর করার নিয়ম করা হয়।

এখন কীভাবে যাচাই হয়

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীদের পাসপোর্ট মূলত তাঁদের অনলাইনে যাচাইকৃত এনআইডি তথ্যের ভিত্তিতে ইস্যু হয়। অর্থাৎ আপনার এনআইডিতে থাকা নাম, জন্মতারিখ, পিতা-মাতার নাম ও ঠিকানা সঠিক থাকলে আলাদাভাবে পুলিশ এসে যাচাই করার দরকার পড়ে না। অন্যদিকে অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং বিদেশে থাকা অনেক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে অনলাইনে যাচাইযোগ্য ইংরেজি জন্মনিবন্ধন সনদের তথ্য যাচাই করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, এই পরিবর্তনের পর অল্প সময়েই উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পাসপোর্ট ইস্যু হয়েছে এবং আগে আটকে থাকা বহু আবেদন ছাড় পেয়েছে।

তবু কিছু বিষয় মাথায় রাখুন

এই পরিবর্তন অনেক আবেদনকারীর জন্য স্বস্তির হলেও কয়েকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। প্রথমত, নিয়ম সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে; তাই ২০২৬ সালে আবেদন করার আগে epassport.gov.bd ও আপনার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সর্বশেষ নোটিশ দেখে নিশ্চিত হয়ে নিন আপনার ধরনের আবেদনে বর্তমানে কী নিয়ম প্রযোজ্য। দ্বিতীয়ত, যেহেতু যাচাই এখন এনআইডি বা জন্মনিবন্ধনের তথ্যনির্ভর, সেই তথ্য নির্ভুল ও পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকা অত্যন্ত জরুরি। রিইস্যুর ক্ষেত্রে আগের পাসপোর্টের তথ্যের সঙ্গে এনআইডি/জন্মনিবন্ধনের তথ্যে অমিল থাকলে আবেদন সফটওয়্যারেই আটকে যেতে পারে। তাই অমিল থাকলে আগে তথ্য সংশোধন করিয়ে নিন।

বিদেশি মিশন ও ব্যতিক্রম

কিছু বাংলাদেশ দূতাবাস বা মিশনের পুরনো পৃষ্ঠায় এখনো ‘প্রথমবার আবেদনকারীর জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক’ ধরনের তথ্য থেকে যেতে পারে, যা নতুন পরিবর্তনের সঙ্গে আর মিলতে না-ও পারে। আপনি যদি বিদেশে থেকে আবেদন করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট মিশনের সর্বশেষ নির্দেশনা আলাদাভাবে দেখে নিন। একইভাবে, তথ্যে কোনো অসঙ্গতি বা নির্দিষ্ট প্রশাসনিক নির্দেশনা থাকলে ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই লাগতে পারে। এমন হলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই—সততার সঙ্গে সঠিক ঠিকানা ও কাগজপত্র দেখিয়ে সহযোগিতা করুন।

আবেদন ও স্ট্যাটাস

সাধারণ প্রক্রিয়ায় আপনি epassport.gov.bd-এ অনলাইনে আবেদন পূরণ করবেন, ফি পরিশোধ করবেন, অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে নির্ধারিত পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক দেবেন। এরপর সাধারণ ক্ষেত্রে আলাদা পুলিশ যাচাইয়ের ধাপ ছাড়াই আবেদন এগোয়। অগ্রগতি জানতে ১৩ সংখ্যার Application ID বা ফর্মের OID দিয়ে স্ট্যাটাস পেজে দেখতে পারবেন; পাসপোর্ট প্রস্তুত হলে এসএমএস ও ইমেইলে জানানো হয়।

তথ্যের অসঙ্গতি থাকলে কী করবেন

যেহেতু নতুন ব্যবস্থায় যাচাই পুরোপুরি এনআইডি বা জন্মনিবন্ধনের অনলাইন তথ্যের ওপর নির্ভরশীল, তাই এই তথ্যগুলোর নির্ভুলতা আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আবেদনের আগে নিজের এনআইডি ও জন্মনিবন্ধনে থাকা নাম, বাবা ও মায়ের নাম, জন্মতারিখ এবং ঠিকানা ভালো করে মিলিয়ে নিন। যদি দেখেন এনআইডি ও জন্মনিবন্ধনের মধ্যে কোনো অমিল আছে, কিংবা এগুলোর সঙ্গে আপনার আগের পাসপোর্টের তথ্য মিলছে না, তাহলে পাসপোর্টের আবেদন সফটওয়্যারেই আটকে যেতে পারে এবং ইস্যু বিলম্বিত হতে পারে। এমন হলে ঘাবড়াবেন না—আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গিয়ে ভুল তথ্যটি সংশোধন করিয়ে নিন, তারপর পাসপোর্টের আবেদন করুন। অনেক আবেদনকারীর দেরি হওয়ার মূল কারণই থাকে এই ধরনের অসঙ্গতি, অথচ আগে একটু মিলিয়ে নিলে তা সহজেই এড়ানো যায়। ভুয়া বা হাতে লেখা নয়, বরং অনলাইনে যাচাইযোগ্য জন্মনিবন্ধন সনদ ব্যবহার করুন, কারণ ব্যবস্থাটি অনলাইন যাচাইনির্ভর।

প্রতারণা থেকে সাবধান

নিয়ম সহজ হলেও দালালচক্র থেমে নেই। কেউ যদি ‘পুলিশ ভেরিফিকেশন পাস করিয়ে দেব’ বা ‘দ্রুত রিপোর্ট আনিয়ে দেব’ বলে টাকা চায়, বুঝবেন এটি প্রতারণা—সাধারণ আবেদনে এখন এই ধাপই নেই, আর যেখানে যাচাই হয় সেখানেও কোনো টাকা লেনদেন নেই। সবসময় কেবল অফিসিয়াল পোর্টাল epassport.gov.bd ব্যবহার করুন এবং ভুয়া ‘পাসপোর্ট এজেন্ট’ ওয়েবসাইট ও পেজ এড়িয়ে চলুন। এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য, কোনো আইনি পরামর্শ নয়; সর্বশেষ নিয়ম অফিসিয়াল সূত্রে যাচাই করে নিন।

⚠ নিরাপদ থাকুন

কিছু দালাল ‘পুলিশ ভেরিফিকেশন পাস করিয়ে দেব’ বা ‘দ্রুত রিপোর্ট করিয়ে দেব’ বলে টাকা চায়—এটি প্রতারণা। সাধারণ আবেদনে এখন আলাদা পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে না, আর যেখানে যাচাই হয় সেখানে কোনো অর্থ লেনদেন নেই। শুধু epassport.gov.bd ব্যবহার করুন এবং ভুয়া ‘এজেন্ট’ সাইট এড়িয়ে চলুন। এটি আইনি পরামর্শ নয়।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

এখন কি সত্যিই পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই পাসপোর্ট হয়?
২০২৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী সাধারণ আবেদনে পুলিশ ভেরিফিকেশন তুলে দিয়ে এনআইডি/জন্মনিবন্ধন যাচাইনির্ভর করা হয়েছে। তবে নিয়ম বদলাতে পারে, তাই ২০২৬ অনুযায়ী যাচাই করুন।
প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কী লাগে?
২০ বছরের বেশি আবেদনকারীর জন্য সাধারণত এনআইডি বাধ্যতামূলক এবং যাচাই হয় অনলাইনে যাচাইকৃত এনআইডি তথ্যের ভিত্তিতে।
শিশু বা প্রবাসীদের ক্ষেত্রে কী হয়?
অপ্রাপ্তবয়স্ক ও বিদেশে থাকা অনেক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে অনলাইনে যাচাইযোগ্য ইংরেজি জন্মনিবন্ধন সনদের তথ্য যাচাই করা হয়।
পুরনো পাসপোর্টের তথ্য না মিললে কী হয়?
এনআইডি/জন্মনিবন্ধনের সঙ্গে আগের পাসপোর্টের তথ্যে অমিল থাকলে আবেদন সফটওয়্যারে আটকে যেতে পারে। তাই আগে তথ্য সংশোধন করে নেওয়া ভালো।
বিদেশি মিশনে নিয়ম কি একই?
কিছু দূতাবাস/মিশনের পুরনো নোটিশে এখনো ভেরিফিকেশনের উল্লেখ থাকতে পারে। নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট মিশনের সর্বশেষ নির্দেশনা দেখুন।
ভেরিফিকেশন তাড়াতাড়ি করাতে কি টাকা দিতে হয়?
না। অতিরিক্ত যাচাই লাগলেও কোনো দালালকে ‘তদবির’-এর টাকা দেবেন না। সরাসরি অফিসিয়াল প্রক্রিয়া মেনে চলুন।

জানি একটি স্বাধীন গাইড এবং কোনো সরকারি সংস্থার সাথে সম্পৃক্ত নয়। ফি, লিংক ও ধাপ পরিবর্তন হতে পারে — কাজ করার আগে সবসময় অফিসিয়াল পোর্টালে নিশ্চিত করে নিন। এটি সাধারণ তথ্য, আইনি বা আর্থিক পরামর্শ নয়।