ড্রাইভিং লাইসেন্স
শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য অনলাইনে আবেদন
গাড়ি চালানো শিখতে প্রথম ধাপই হলো শিক্ষানবিশ (লার্নার) ড্রাইভিং লাইসেন্স। BRTA-এর অনলাইন পোর্টালে নিজেই কীভাবে আবেদন করবেন, ধাপে ধাপে দেখে নিন।
সংক্ষেপে উত্তর
bsp.brta.gov.bd পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খুলে, NID ও মোবাইল OTP দিয়ে নিবন্ধন করুন, ছবি-মেডিকেল-শিক্ষাগত সনদসহ 'ড্রাইভিং লাইসেন্স' আবেদন ফরম পূরণ করুন, অনলাইনে ফি দিন এবং নির্ধারিত দিনে পরীক্ষার জন্য হাজির হোন।
মূল পয়েন্ট
- শিক্ষানবিশ লাইসেন্স দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শিক্ষাধীন অবস্থায় গাড়ি চালানো যায়; এটি স্মার্ট কার্ড লাইসেন্সের পূর্বশর্ত।
- আবেদন হয় BRTA-এর অফিশিয়াল BSP পোর্টাল bsp.brta.gov.bd-তে, নিজের NID ও মোবাইল নম্বর দিয়ে।
- অপেশাদার লাইসেন্সের জন্য সাধারণত বয়স ন্যূনতম ১৮ এবং পেশাদারের জন্য ২১; শিক্ষাগত যোগ্যতা অন্তত অষ্টম শ্রেণি (২০২৬ অনুযায়ী যাচাই করুন)।
- পাসপোর্ট সাইজ ছবি, রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের মেডিকেল সনদ, NID ও শিক্ষাগত সনদ স্ক্যান করে প্রস্তুত রাখুন।
- দালাল ধরবেন না—আবেদন, ফি ও পরীক্ষা সবই নিজে পোর্টালে করা যায়; কেউ 'লাইসেন্স নিশ্চিত' বললে সতর্ক হোন।
ধাপে ধাপে
- BSP পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খুলুনব্রাউজারে bsp.brta.gov.bd খুলে 'Registration' বেছে নিন। জন্মতারিখ, NID নম্বর ও নিজের মোবাইল নম্বর দিন। মোবাইলে আসা OTP দিয়ে নম্বর যাচাই করুন ও একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড সেট করুন।
- কাগজপত্র স্ক্যান করে প্রস্তুত রাখুনসাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি, রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের মেডিকেল সার্টিফিকেট, NID এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ স্ক্যান করুন। সাধারণত ছবির ফাইল ১৫০ কিলোবাইট এবং অন্যান্য ফাইল ৬০০ কিলোবাইটের মধ্যে রাখতে বলা হয়—পোর্টালের নির্দেশনা দেখে নিন।
- লগইন করে আবেদন ফরম পূরণ করুনঅ্যাকাউন্টে লগইন করে ড্যাশবোর্ড থেকে বাঁ পাশের মেনুতে 'Driving Licence' এবং তারপর 'Application for Driving Licence' বেছে নিন। অপেশাদার না পেশাদার, কোন ধরনের যানবাহন—এসব তথ্য সাবধানে পূরণ করুন।
- অনলাইনে ফি পরিশোধ করুনপোর্টালের নির্ধারিত পেমেন্ট গেটওয়ে (মোবাইল ব্যাংকিং/কার্ড) দিয়ে শিক্ষানবিশ লাইসেন্সের ফি পরিশোধ করুন। ফি-এর অঙ্ক সময়ে সময়ে বদলায়, তাই ২০২৬ অনুযায়ী প্রকৃত অঙ্ক পোর্টালেই যাচাই করুন এবং রসিদ সংরক্ষণ করুন।
- শিক্ষানবিশ লাইসেন্স ডাউনলোড করুনআবেদন ও ফি নিশ্চিত হলে পোর্টাল থেকে QR কোডযুক্ত শিক্ষানবিশ লাইসেন্স পাওয়া যায়; এটি প্রিন্ট করে রাখুন। এতে আপনার পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ও কেন্দ্রের তথ্যও থাকে।
- পরীক্ষার দিন কেন্দ্রে যাননির্ধারিত দিনে বায়োমেট্রিক, লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক (প্র্যাকটিক্যাল) পরীক্ষার জন্য BRTA সার্কেল অফিস/কেন্দ্রে উপস্থিত হোন। মূল কাগজপত্র ও প্রিন্ট করা শিক্ষানবিশ লাইসেন্স সঙ্গে নিন। পাস করলে পরে স্মার্ট কার্ড লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা যায়।
শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স কী
বাংলাদেশে বৈধভাবে গাড়ি চালানো শিখতে ও পরে স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে প্রথম ধাপই হলো শিক্ষানবিশ বা লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স। এটি একটি অস্থায়ী অনুমতিপত্র, যা দিয়ে আপনি শিক্ষাধীন অবস্থায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্দিষ্ট শ্রেণির যানবাহন চালানোর অনুশীলন করতে পারেন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BRTA) এখন এই সেবা অনলাইনে দেয়, ফলে অফিসে বারবার না গিয়েও ঘরে বসে আবেদন শুরু করা যায়।
আবেদনের আগে যা জানা দরকার
আবেদন করার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন আপনি যোগ্য কি না। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী অপেশাদার লাইসেন্সের জন্য ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর এবং পেশাদার লাইসেন্সের জন্য ২১ বছর। শিক্ষাগত যোগ্যতা সাধারণত অন্তত অষ্টম শ্রেণি পাস ধরা হয়। তবে এসব শর্ত ও ফি-এর অঙ্ক সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই ২০২৬ সালের সর্বশেষ নিয়ম সবসময় অফিশিয়াল পোর্টালেই যাচাই করে নিন।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
আবেদন শুরু করার আগে নিচের কাগজগুলো স্ক্যান করে প্রস্তুত রাখলে কাজ সহজ হয়—সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি, একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের দেওয়া মেডিকেল সার্টিফিকেট, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ। আপনার বর্তমান ঠিকানা যদি NID-এর ঠিকানার সঙ্গে না মেলে, তাহলে একটি ইউটিলিটি বিলও লাগতে পারে। সাধারণত ছবির ফাইলের আকার ছোট (আনুমানিক ১৫০ কিলোবাইট) এবং অন্যান্য ফাইল আরও বড় আকারের মধ্যে রাখতে বলা হয়; সঠিক সীমা পোর্টালের নির্দেশনায় দেখে নিন।
ধাপে ধাপে আবেদন
প্রথমে BRTA-এর অফিশিয়াল পোর্টাল bsp.brta.gov.bd-তে যান এবং ‘Registration’ থেকে একটি অ্যাকাউন্ট খুলুন। এখানে আপনার জন্মতারিখ, NID নম্বর ও মোবাইল নম্বর দিতে হবে। মোবাইলে একটি OTP আসবে, সেটি দিয়ে নম্বর যাচাই করে পাসওয়ার্ড সেট করুন। এরপর লগইন করলে আপনি একটি ড্যাশবোর্ড দেখতে পাবেন। বাঁ পাশের মেনু থেকে ‘Driving Licence’ এবং তারপর ‘Application for Driving Licence’ নির্বাচন করুন। ফরমে আপনি অপেশাদার না পেশাদার লাইসেন্স চান, কোন শ্রেণির যানবাহন চালাবেন—এসব তথ্য সাবধানে পূরণ করুন, কারণ ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
তথ্য ও কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর পোর্টালের নির্ধারিত পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে অনলাইনে ফি পরিশোধ করুন। পেমেন্ট সফল হলে রসিদ ও আবেদন কপি সংরক্ষণ করুন। আবেদন গৃহীত হলে আপনি একটি QR কোডযুক্ত শিক্ষানবিশ লাইসেন্স ডাউনলোড করতে পারবেন, যা প্রিন্ট করে সঙ্গে রাখা ভালো।
পরীক্ষা ও পরবর্তী ধাপ
শিক্ষানবিশ লাইসেন্স পাওয়ার পর নির্ধারিত দিনে আপনাকে বায়োমেট্রিক, লিখিত, মৌখিক এবং ব্যবহারিক (প্র্যাকটিক্যাল) পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট BRTA সার্কেল অফিস বা পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হয়। সঙ্গে মূল কাগজপত্র ও প্রিন্ট করা শিক্ষানবিশ লাইসেন্স নিয়ে যান। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে আপনি স্মার্ট কার্ড (পূর্ণাঙ্গ) ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন, যা সাধারণত ডাকযোগে পাঠানো হয় বা অফিস থেকে সংগ্রহ করতে হয়।
সতর্কতা
BRTA অফিসের আশপাশে অনেক দালাল বা তথাকথিত ‘এজেন্ট’ দ্রুত লাইসেন্স করিয়ে দেওয়া কিংবা পরীক্ষা ছাড়াই পাস করানোর প্রতিশ্রুতি দেয়—এগুলো প্রতারণা এবং আইনত ঝুঁকিপূর্ণ। আপনার NID, পোর্টালের পাসওয়ার্ড বা মোবাইলে আসা OTP কখনোই কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না। পুরো প্রক্রিয়াটি নিজে অফিশিয়াল পোর্টালে সম্পন্ন করা সম্ভব।
সাধারণ ভুল ও কিছু পরামর্শ
আবেদন করতে গিয়ে অনেকেই কিছু সাধারণ ভুল করেন, যার ফলে আবেদন আটকে যায় বা বাতিল হয়। প্রথমত, ছবি বা কাগজের ফাইল সাইজ নির্ধারিত সীমার চেয়ে বড় হলে আপলোড হয় না; তাই আগে থেকে ছবি রিসাইজ ও কম্প্রেস করে রাখুন। দ্বিতীয়ত, NID-তে থাকা নাম ও জন্মতারিখের সঙ্গে ফরমের তথ্য হুবহু মেলানো জরুরি—সামান্য গরমিলও যাচাইয়ে সমস্যা তৈরি করে। তৃতীয়ত, মেডিকেল সার্টিফিকেট অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের কাছ থেকে নিন, কারণ ভুয়া সনদ দিলে আবেদন বাতিল ও আইনি জটিলতা হতে পারে। পরীক্ষার আগে ট্রাফিক সাইন, সিগন্যাল ও সড়ক আইনের মৌলিক বিষয়গুলো পড়ে নিলে লিখিত ও মৌখিক অংশে ভালো করা সহজ হয়। ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য একজন অভিজ্ঞ চালক বা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সহায়তায় যথেষ্ট অনুশীলন করুন। সবশেষে, আবেদন কপি, ফি রসিদ ও শিক্ষানবিশ লাইসেন্সের প্রিন্ট একটি ফোল্ডারে গুছিয়ে রাখুন, যাতে পরীক্ষার দিন বা স্মার্ট কার্ড আবেদনের সময় সহজে হাতের কাছে পান।
এই নিবন্ধটি সাধারণ তথ্যের জন্য; এটি আইনি পরামর্শ নয়, এবং নিয়ম বদলাতে পারে বলে সর্বশেষ তথ্য সরকারি উৎস থেকে যাচাই করে নিন।
⚠ নিরাপদ থাকুন
BRTA অফিসের আশপাশে 'দালাল' বা 'এজেন্ট' আপনাকে দ্রুত লাইসেন্স বা পরীক্ষা ছাড়াই পাসের প্রতিশ্রুতি দিতে পারে—এগুলো প্রতারণা। নিজের NID, পাসওয়ার্ড বা মোবাইলের OTP কখনোই কারও হাতে দেবেন না। আবেদন, ফি ও পরীক্ষা সবই সরকারি পোর্টালে নিজে সম্পন্ন করুন।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর
শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স কী কাজে লাগে?
আবেদন কোন ওয়েবসাইটে করতে হয়?
আবেদন করতে কী কী কাগজ লাগে?
ফি কত টাকা?
বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা কত লাগে?
দালাল ছাড়া কি নিজে আবেদন করা যায়?
জানি একটি স্বাধীন গাইড এবং কোনো সরকারি সংস্থার সাথে সম্পৃক্ত নয়। ফি, লিংক ও ধাপ পরিবর্তন হতে পারে — কাজ করার আগে সবসময় অফিসিয়াল পোর্টালে নিশ্চিত করে নিন। এটি সাধারণ তথ্য, আইনি বা আর্থিক পরামর্শ নয়।