✓ স্বাধীন — এটি কোনো সরকারি ওয়েবসাইট নয় ✓ প্রতিটি ধাপ অফিসিয়াল পোর্টালে যাচাই করা ✓ আমরা কখনো আপনার NID, OTP বা পাসওয়ার্ড চাই না

অনলাইনে জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করার নিয়ম ২০২৬

থানায় না গিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের সরকারি Online GD অ্যাপ ও gd.police.gov.bd পোর্টালে ঘরে বসেই সাধারণ ডায়েরি করা যায়। নিচে ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়া ও সতর্কতা দেওয়া হলো।

সংক্ষেপে উত্তর

মোবাইলে সরকারি “Online GD” অ্যাপ ইনস্টল করে এনআইডি/পাসপোর্ট/জন্মসনদ দিয়ে একবার নিবন্ধন করুন। এরপর জিডির ধরন, জেলা ও থানা নির্বাচন করে ঘটনার সময়, স্থান ও বিবরণ লিখে প্রয়োজনীয় কাগজ সংযুক্ত করে জমা দিন। গৃহীত হলে জিডি নম্বরসহ ডিজিটাল কপি পাবেন। জিডি করতে কোনো টাকা লাগে না।

মূল পয়েন্ট

  • সরকারি পোর্টাল gd.police.gov.bd অথবা “Online GD” অ্যাপই একমাত্র সঠিক মাধ্যম।
  • নিবন্ধন একবারই করতে হয়; এনআইডি, পাসপোর্ট বা জন্মসনদ নম্বর লাগে।
  • অনলাইন জিডিতে কোনো ফি নেই—কেউ টাকা চাইলে সেটি প্রতারণা।
  • গৃহীত হলে জিডি নম্বর ও তদন্ত কর্মকর্তার তথ্যসহ ডিজিটাল কপি পাবেন।
  • সব জেলা/থানায় সব ধরনের জিডি চালু নাও থাকতে পারে—অ্যাপে যাচাই করুন।

ধাপে ধাপে

  1. u0985u09cdu09afu09beu09aa u0987u09a8u09b8u09cdu099fu09b2 u0993 u09a8u09bfu09acu09a8u09cdu09a7u09a8u0997u09c1u0997u09b2 u09aau09cdu09b2u09c7 u09b8u09cdu099fu09cbu09b0 u09a5u09c7u0995u09c7 u09acu09beu0982u09b2u09beu09a6u09c7u09b6 u09aau09c1u09b2u09bfu09b6u09c7u09b0 u201cOnline GDu201d u0985u09cdu09afu09beu09aa u0987u09a8u09b8u09cdu099fu09b2 u0995u09b0u09c1u09a8u0964 u09aau09cdu09b0u09a5u09aeu09acu09beu09b0 u098fu09a8u0986u0987u09a1u09bf/u09aau09beu09b8u09aau09cbu09b0u09cdu099f/u099cu09a8u09cdu09aeu09b8u09a8u09a6 u09a8u09aeu09cdu09acu09b0 u0993 u09aeu09cbu09acu09beu0987u09b2 u09a8u09aeu09cdu09acu09b0 u09a6u09bfu09afu09bcu09c7 u09a8u09bfu09acu09a8u09cdu09a7u09a8 u0995u09b0u09c1u09a8u0964 u09a8u09bfu09acu09a8u09cdu09a7u09a8 u098fu0995u09acu09beu09b0u0987 u09b2u09beu0997u09c7u0964
  2. u099cu09bfu09a1u09bfu09b0 u09a7u09b0u09a8 u09a8u09bfu09b0u09cdu09acu09beu099au09a8u09b2u0997u0987u09a8 u0995u09b0u09c7 u0985u09adu09bfu09afu09cbu0997u09c7u09b0 u09a7u09b0u09a8 u09acu09c7u099bu09c7 u09a8u09bfu09a8u2014u09afu09c7u09aeu09a8 u09b9u09beu09b0u09beu09a8u09cb, u09aau09cdu09b0u09beu09aau09cdu09a4u09bf u09acu09be u0985u09a8u09cdu09af u09acu09bfu09b7u09afu09bcu0964 u09b9u09beu09b0u09beu09a8u09cb/u09aau09cdu09b0u09beu09aau09cdu09a4u09bf u09b9u09b2u09c7 u09b8u0982u09b6u09cdu09b2u09bfu09b7u09cdu099f u099cu09bfu09a8u09bfu09b8 u09acu09be u0995u09beu0997u099cu09c7u09b0 u09a4u09a5u09cdu09af u09a6u09bfu09a8u0964
  3. u099cu09c7u09b2u09be u0993 u09a5u09beu09a8u09be u09acu09beu099bu09beu0987u09afu09c7 u099cu09c7u09b2u09be u0993 u09a5u09beu09a8u09beu09b0 u0986u0993u09a4u09beu09afu09bc u099cu09bfu09a1u09bf u0995u09b0u09a4u09c7 u099au09beu09a8 u09a4u09be u09a8u09bfu09b0u09cdu09acu09beu099au09a8 u0995u09b0u09c1u09a8u0964 u0986u09aau09a8u09beu09b0 u098fu09b2u09beu0995u09beu09afu09bc u09b8u09c7u09acu09be u099au09beu09b2u09c1 u0986u099bu09c7 u0995u09bf u09a8u09be u09a4u09be u098f u09a7u09beu09aau09c7u0987 u09acu09cbu099du09be u09afu09beu09afu09bcu0964
  4. u0998u099fu09a8u09beu09b0 u09acu09bfu09acu09b0u09a3 u09b2u09bfu0996u09c1u09a8u0998u099fu09a8u09beu09b0 u09b8u09aeu09afu09bc u0993 u09b8u09cdu09a5u09beu09a8 u09a6u09bfu09a8u0964 u098fu09b0u09aau09b0 u09acu09b0u09cdu09a4u09aeu09beu09a8 u09a0u09bfu0995u09beu09a8u09be u0993 u0998u099fu09a8u09beu09b0 u09acu09bfu09b8u09cdu09a4u09beu09b0u09bfu09a4 u09acu09bfu09acu09b0u09a3 u09aau09b0u09bfu09b7u09cdu0995u09beu09b0u09adu09beu09acu09c7 u09b2u09bfu0996u09c1u09a8u0964
  5. u0995u09beu0997u099c u09b8u0982u09afu09c1u0995u09cdu09a4 u0993 u09afu09beu099au09beu0987u09aau09cdu09b0u09afu09bcu09cbu099cu09a8u09c0u09afu09bc u09a8u09a5u09bf (u09afu09c7u09aeu09a8 u09b9u09beu09b0u09beu09a8u09cb u0995u09beu0997u099cu09c7u09b0 u0995u09aau09bf) u09b8u0982u09afu09c1u0995u09cdu09a4 u0995u09b0u09c1u09a8u0964 u099cu09aeu09be u09a6u09c7u0993u09afu09bcu09beu09b0 u0986u0997u09c7 u201cEditu201d u0985u09aau09b6u09a8u09c7 u0997u09bfu09afu09bcu09c7 u09b8u09ac u09a4u09a5u09cdu09af u0986u09b0u09c7u0995u09acu09beu09b0 u09afu09beu099au09beu0987 u0995u09b0u09c1u09a8u0964
  6. u099cu09aeu09be u0993 u099cu09bfu09a1u09bf u0995u09aau09bf u09b8u0982u0997u09cdu09b0u09b9u0986u09acu09c7u09a6u09a8 u099cu09aeu09be u09a6u09bfu09a8u0964 u0997u09c3u09b9u09c0u09a4 u09b9u09b2u09c7 u099cu09bfu09a1u09bf u09a8u09aeu09cdu09acu09b0, u09a1u09bfu099cu09bfu099fu09beu09b2 u0995u09aau09bf u0993 u09a4u09a6u09a8u09cdu09a4u0995u09beu09b0u09c0 u0995u09b0u09cdu09aeu0995u09b0u09cdu09a4u09beu09b0 u09a4u09a5u09cdu09af u09aau09beu09acu09c7u09a8u0964 u09aau09b0u09c7 u09b2u0997u0987u09a8 u0995u09b0u09c7 u099cu09bfu09a1u09bfu09b0 u0985u09acu09b8u09cdu09a5u09be u09a6u09c7u0996u09a4u09c7 u09aau09beu09b0u09acu09c7u09a8u0964

অনলাইনে জিডি বা সাধারণ ডায়েরি হলো বাংলাদেশ পুলিশের একটি ডিজিটাল সেবা, যার মাধ্যমে কোনো ঘটনা বা আশঙ্কার কথা থানায় সশরীরে না গিয়েই লিখিতভাবে জানানো যায়। সরকারি পোর্টাল gd.police.gov.bd এবং অফিসিয়াল “Online GD” মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এই সেবা পাওয়া যায়। আগে যেখানে ছোটখাটো একটি কাগজ হারালেও থানায় গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হতো, এখন ঘরে বসে কয়েক মিনিটেই তা করা সম্ভব। এই নিবন্ধে অনলাইন জিডি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় সব দিক—এটি কী, কারা করতে পারেন, কী কাগজ লাগে, কত সময় লাগে, কোথায় সমস্যা হয় এবং কীভাবে সমাধান করবেন—তুলে ধরা হলো।

অনলাইন জিডি আসলে কী

জিডি মূলত পুলিশের কাছে কোনো ঘটনা বা আশঙ্কার আনুষ্ঠানিক লিখিত রেকর্ড। হারানো জিনিস (যেমন জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, সার্টিফিকেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, মোবাইল), কোনো কিছু কুড়িয়ে পাওয়া, কিংবা নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কা—এসব ক্ষেত্রে জিডি করা হয়। অনলাইন ব্যবস্থায় আবেদনটি সরাসরি সংশ্লিষ্ট থানায় পৌঁছে যায় এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা তা যাচাই করে গ্রহণ করেন। শুরুর দিকে মূলত হারানো ও প্রাপ্তি সংক্রান্ত জিডিই অনলাইনে করা যেত; পরে ধাপে ধাপে অন্যান্য ধরন ও নতুন নতুন এলাকা যুক্ত করা হয়েছে। তবে এটি কোনো মামলা বা এজাহার নয়—জিডি ও মামলা দুটি আলাদা বিষয়, যা অনেকেই গুলিয়ে ফেলেন।

কারা করতে পারেন ও কখন প্রযোজ্য

বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিক, যিনি নিজের বা নিজের সম্পত্তি সংক্রান্ত কোনো ঘটনা রেকর্ড করাতে চান, তিনি এই সেবা নিতে পারেন। তবে এটি সব পরিস্থিতির সমাধান নয়। গুরুতর অপরাধ, চুরি-ডাকাতি চলাকালীন অবস্থা, নারী ও শিশু নির্যাতন কিংবা তাৎক্ষণিক বিপদে অনলাইন জিডির ওপর নির্ভর না করে সরাসরি থানায় যাওয়া বা জাতীয় জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ কল করা নিরাপদ। মনে রাখা জরুরি, জিডি ও মামলা (এজাহার) এক জিনিস নয়—কোনো শাস্তিযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে পরে মামলা করতে হতে পারে। আপনার এলাকায় কোন কোন ধরনের জিডি অনলাইনে গ্রহণ করা হচ্ছে, তা অ্যাপে জেলা ও থানা নির্বাচনের সময় বোঝা যায়।

প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র

নিবন্ধনের জন্য আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট বা জন্মনিবন্ধন সনদের নম্বর এবং একটি সচল মোবাইল নম্বর লাগবে। নিবন্ধন একবারই করতে হয়, এরপর একই অ্যাকাউন্ট দিয়ে বারবার জিডি করা যায়। জিডি করার সময় লাগবে ঘটনার সময়, স্থান, বর্তমান ঠিকানা এবং ঘটনার স্পষ্ট ও বিস্তারিত বিবরণ। হারানো কাগজের ক্ষেত্রে সেই কাগজের নম্বর বা পুরনো কপি/ফটোকপি থাকলে তা সংযুক্ত করলে পরবর্তী কাজ সহজ হয়। সব তথ্য সত্য ও নির্ভুলভাবে দেওয়া জরুরি, কারণ মিথ্যা তথ্য দিয়ে জিডি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রয়োজনীয় কাগজের তালিকা ঘটনাভেদে আলাদা হতে পারে, তাই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অ্যাপের নির্দেশনা দেখে নিন।

ফি ও পরিশোধ

অনলাইন জিডি সম্পূর্ণ বিনামূল্যের একটি সেবা; এর জন্য কোনো সরকারি ফি নেই এবং কোনো দালাল বা এজেন্টের দরকার নেই। কেউ যদি ফি, “সার্ভিস চার্জ” বা “তাড়াতাড়ি করিয়ে দেওয়ার” নামে টাকা চায়, তাহলে বুঝবেন এটি প্রতারণা। যেহেতু কোনো অর্থ পরিশোধের ধাপই নেই, তাই কোনো মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে টাকা পাঠানোর প্রশ্নই ওঠে না। যদি কোনো ওয়েবসাইট বা ব্যক্তি জিডির নামে পেমেন্ট চায়, সেটি ভুয়া—শুধু অফিসিয়াল পোর্টাল ও অ্যাপ ব্যবহার করুন। এই বিনামূল্যের নীতি অনলাইন ব্যবস্থার একটি বড় সুবিধা, কারণ এতে সাধারণ মানুষ বাড়তি খরচ ছাড়াই সেবা নিতে পারেন।

বাস্তব সময়সীমা

আবেদন জমা দেওয়ার পর তা সাধারণত দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানায় পৌঁছে যায় এবং যাচাইয়ের পর জিডি নম্বরসহ ডিজিটাল কপি পাওয়া যায়। তবে যাচাই ও তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের ঠিক কত সময় লাগবে, তা থানা ও ঘটনার ধরনভেদে ভিন্ন হতে পারে—কোথাও তা প্রায় সঙ্গে সঙ্গে হয়, কোথাও কিছুটা সময় নেয়। তাই নির্দিষ্ট সময় নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। জরুরি প্রয়োজনে (যেমন ভিসা বা বিমা দাবির জন্য জিডি কপি দরকার হলে) হাতে কিছুটা সময় রেখে আবেদন করা ভালো। আবেদনের বর্তমান অবস্থা যেকোনো সময় লগইন করে দেখা যায়, ফলে অযথা থানায় ঘোরাঘুরির প্রয়োজন হয় না।

এলাকাভেদে পার্থক্য

অনলাইন জিডি সেবা ধাপে ধাপে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তাই সব জেলা ও থানায় সব ধরনের জিডি একই সময়ে চালু নাও থাকতে পারে। কোনো কোনো রেঞ্জ বা জেলায় সব ধরনের জিডি নেওয়া হয়, আবার কোথাও শুধু নির্দিষ্ট কিছু ধরন অনলাইনে গ্রহণ করা হয়। অ্যাপে জেলা ও থানা নির্বাচনের সময় আপনার থানা তালিকায় এলে বুঝবেন সেখানে সেবা চালু আছে; তালিকায় না এলে ওই থানায় সরাসরি যেতে হতে পারে। যেহেতু সেবার পরিধি নিয়মিত বাড়ছে, তাই পুরনো তথ্যের ওপর নির্ভর না করে আবেদনের সময় অ্যাপেই সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করে নেওয়া উত্তম।

আবেদন বাতিল বা আটকে যাওয়ার কারণ ও সমাধান

কিছু সাধারণ কারণে আবেদন আটকে যেতে পারে বা গৃহীত হতে দেরি হয়। যেমন—নিবন্ধনের সময় এনআইডি তথ্য সঠিকভাবে না মেলা, ছবি বা নথি অস্পষ্ট হওয়া, ঘটনার বিবরণ অসম্পূর্ণ বা অস্পষ্ট থাকা, কিংবা ভুল থানা নির্বাচন করা। এসব এড়াতে তথ্য দেওয়ার সময় ধীরেসুস্থে ও নির্ভুলভাবে পূরণ করুন এবং জমা দেওয়ার আগে “Edit” অপশনে গিয়ে সব আরেকবার মিলিয়ে নিন। ঘটনার বিবরণে কী হারিয়েছে/ঘটেছে, কবে, কোথায়—এই তথ্যগুলো পরিষ্কারভাবে লিখুন। ভুল থানা নির্বাচন করলে আবেদন সঠিক জায়গায় পৌঁছায় না, তাই ঘটনাস্থল অনুযায়ী থানা বাছাই করা জরুরি।

পোর্টাল বা অ্যাপ কাজ না করলে করণীয়

কখনো কখনো সার্ভারে চাপ, ইন্টারনেট সমস্যা বা অ্যাপের পুরনো সংস্করণের কারণে আবেদন করতে অসুবিধা হতে পারে। প্রথমে অ্যাপটি হালনাগাদ (আপডেট) করে নিন ও স্থিতিশীল ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করুন। সমস্যা থাকলে কিছুক্ষণ পর আবার চেষ্টা করুন। নিবন্ধন বা আবেদন সংক্রান্ত যেকোনো প্রযুক্তিগত সমস্যায় ২৪ ঘণ্টা চালু জাতীয় হেল্পলাইন 01320001428-এ যোগাযোগ করা যায়। একেবারেই অনলাইনে না হলে, বিশেষত জরুরি পরিস্থিতিতে, নিকটতম থানায় সরাসরি গিয়ে জিডি করা যায়—অনলাইন ব্যবস্থা থানার বিকল্প নয়, বরং অতিরিক্ত সুবিধা। অফিসিয়াল সাইট gd.police.gov.bd-এও সর্বশেষ নির্দেশনা ও নোটিশ পাওয়া যায়।

জিডি যাচাই ও কপি সংরক্ষণ

আবেদন গৃহীত হলে অ্যাপেই জিডি নম্বর, গ্রহণের তারিখ, সংশ্লিষ্ট থানা এবং তদন্তকারী কর্মকর্তার তথ্যসহ একটি ডিজিটাল কপি পাওয়া যায়। এই কপিটি ডাউনলোড করে বা প্রিন্ট করে সংরক্ষণ করুন, কারণ ভিসা, বিমা দাবি, নতুন কাগজ তোলা বা অন্যান্য প্রয়োজনে এটি কাজে লাগে। পরবর্তীতে লগইন করে জিডির সর্বশেষ অবস্থা ও অগ্রগতি দেখা যায়। জিডি নম্বরটি আলাদা করে লিখে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ, যাতে ভবিষ্যতে দ্রুত খুঁজে পাওয়া যায়।

ব্যবহারিক টিপস ও সতর্কতা

কয়েকটি বিষয় মনে রাখলে পুরো প্রক্রিয়া সহজ হয়। প্রথমত, শুধু অফিসিয়াল gd.police.gov.bd বা প্লে স্টোরের আসল “Online GD” অ্যাপ ব্যবহার করুন; নকল অ্যাপ বা ভুয়া সাইট এড়িয়ে চলুন। দ্বিতীয়ত, নিজের এনআইডি নম্বর, ওটিপি বা অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড কাউকে—এমনকি ফোনে “পুলিশ” বা “হেল্পলাইন” পরিচয় দেওয়া কাউকেও—দেবেন না। তৃতীয়ত, ঘটনার বিবরণ সত্য ও নির্ভুল রাখুন এবং সম্ভব হলে সংশ্লিষ্ট কাগজের কপি সংযুক্ত করুন। চতুর্থত, গুরুতর বা জরুরি পরিস্থিতিতে ৯৯৯-এ কল করুন বা সরাসরি থানায় যান। এই সতর্কতাগুলো মেনে চললে ঘরে বসেই নিরাপদে ও বিনামূল্যে জিডির কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব।

অনলাইন জিডির সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা

অনলাইন জিডির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সময় ও শ্রম সাশ্রয়—ঘরে বসে, যেকোনো সময়, এমনকি রাতেও আবেদন করা যায় এবং থানায় লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা নেই। ডিজিটাল কপি সহজে সংরক্ষণ ও পুনরায় ব্যবহার করা যায়, আর আবেদনের অবস্থা অনলাইনে দেখা যায় বলে স্বচ্ছতাও বেশি। তবে এর কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে। এটি জরুরি পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান নয়, এবং সব ধরনের ঘটনা বা সব এলাকার জন্য প্রযোজ্য নয়। যেসব ক্ষেত্রে সরাসরি তদন্ত, ঘটনাস্থল পরিদর্শন বা তাৎক্ষণিক পুলিশি হস্তক্ষেপ দরকার, সেখানে সশরীরে থানায় যাওয়াই উপযুক্ত। তাই অনলাইন জিডিকে একটি সহায়ক ডিজিটাল সুবিধা হিসেবে দেখুন, থানার পূর্ণ বিকল্প হিসেবে নয়। আপনার ক্ষেত্রে কোনটি প্রযোজ্য তা বুঝে সিদ্ধান্ত নিন এবং প্রয়োজনে পুলিশের পরামর্শ নিন।

প্রস্তুতি ও কিছু বাড়তি পরামর্শ

আবেদন সহজ করতে আগেভাগে কিছু প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন। হারানো জিনিসের বিবরণ—যেমন কাগজের নম্বর, মোবাইলের আইএমইআই, বা সংশ্লিষ্ট তারিখ—হাতে রাখলে ফরম পূরণ দ্রুত হয়। ঘটনার একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু স্পষ্ট বিবরণ মনে মনে গুছিয়ে নিন, যাতে বিস্তারিত ঘরে তা পরিষ্কারভাবে লিখতে পারেন। অ্যাকাউন্টের লগইন তথ্য নিরাপদে রাখুন এবং কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না। জিডি গৃহীত হলে জিডি নম্বরটি আলাদা করে সংরক্ষণ করুন, কারণ পরবর্তী যেকোনো যোগাযোগে এটি প্রয়োজন হবে। মনে রাখবেন, মিথ্যা বা অতিরঞ্জিত তথ্য দিয়ে জিডি করা আইনগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ, তাই সবসময় সত্য তথ্য দিন। সর্বশেষ নিয়ম, সেবার পরিধি ও নির্দেশনার জন্য অফিসিয়াল পোর্টাল ও হেল্পলাইনই নির্ভরযোগ্য উৎস—পুরনো তথ্যের ওপর নির্ভর না করে আবেদনের সময় সেখানেই যাচাই করে নিন।

সঠিক তথ্যের জন্য নির্ভরযোগ্য উৎস

অনলাইন জিডি সংক্রান্ত নিয়ম, সেবার পরিধি ও হটলাইন নম্বর সময়ে সময়ে হালনাগাদ হতে পারে, তাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল পোর্টাল gd.police.gov.bd এবং অফিসিয়াল Online GD অ্যাপের ওপরই নির্ভর করুন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অযাচাই তথ্য বা অচেনা ওয়েবসাইটের দাবি যাচাই না করে বিশ্বাস করবেন না। কোনো ধাপ বুঝতে না পারলে বা আবেদন নিয়ে সংশয় থাকলে হেল্পলাইনে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়ে নিন। সঠিক তথ্য, সত্য বিবরণ ও অফিসিয়াল মাধ্যম ব্যবহার করলে ঘরে বসে নিরাপদে ও বিনামূল্যে জিডির কাজ সম্পন্ন করা যায়, এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনে সেই রেকর্ড কাজে লাগানো সহজ হয়।

⚠ নিরাপদ থাকুন

জিডি করতে কোনো টাকা লাগে না এবং কোনো দালাল বা এজেন্টের প্রয়োজন নেই। শুধু সরকারি gd.police.gov.bd বা বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল “Online GD” অ্যাপ ব্যবহার করুন। ভুয়া ওয়েবসাইট বা ফোন কলে আপনার এনআইডি, ওটিপি বা পাসওয়ার্ড কাউকে দেবেন না। মনে রাখুন, janibd.com কোনো সরকারি সংস্থা নয়; আমরা কোনো আবেদন গ্রহণ করি না এবং আপনার এনআইডি, ওটিপি বা পাসওয়ার্ড কখনো চাই না।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

অনলাইন জিডি করতে কি টাকা লাগে?
না। অনলাইন জিডি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। কেউ ফি বা “দ্রুত করিয়ে দেওয়ার” নামে টাকা চাইলে দেবেন না—এটি প্রতারণা।
কোন কোন বিষয়ে অনলাইন জিডি করা যায়?
শুরুতে মূলত হারানো ও প্রাপ্তির জিডি করা যেত; পরে ধরন বাড়ানো হয়েছে। তবে সব থানায় সব ধরনের জিডি চালু নাও থাকতে পারে, তাই অ্যাপে যাচাই করুন।
জিডি নম্বর কোথায় পাব?
আবেদন গৃহীত হলে অ্যাপেই জিডি নম্বরসহ ডিজিটাল কপি পাওয়া যায়, যা ডাউনলোড বা প্রিন্ট করে রাখতে পারেন।
সমস্যা হলে কোথায় যোগাযোগ করব?
নিবন্ধন বা আবেদনে সমস্যা হলে ২৪ ঘণ্টা চালু জাতীয় হেল্পলাইন 01320001428-এ যোগাযোগ করতে পারেন।
গুরুতর অপরাধ বা জরুরি বিপদেও কি অনলাইন জিডিই করব?
না। গুরুতর অপরাধ বা তাৎক্ষণিক বিপদে সরাসরি নিকটতম থানায় যান বা জাতীয় জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ কল করুন।
আমার এলাকায় সেবা চালু কি না কীভাবে বুঝব?
অ্যাপে জেলা ও থানা নির্বাচনের সময় সেবা চালু থাকলে থানাটি তালিকায় আসবে। না এলে ওই থানায় সরাসরি যেতে হতে পারে।

জানি একটি স্বাধীন গাইড এবং কোনো সরকারি সংস্থার সাথে সম্পৃক্ত নয়। ফি, লিংক ও ধাপ পরিবর্তন হতে পারে — কাজ করার আগে সবসময় অফিসিয়াল পোর্টালে নিশ্চিত করে নিন। এটি সাধারণ তথ্য, আইনি বা আর্থিক পরামর্শ নয়।